বিমল কুমার রায়, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
গত ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ আসনে (বোদা-দেবীগঞ্জ) ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি মনোনীত ফরহাদ হোসেন আজাদ বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি দেবীগঞ্জের ঐতিহাসিক দেবদারু তলায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মহাসচিবের আগমনে জনসভাটি বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সেদিনের জনসভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি জানান, ধানের শীষকে বিজয়ী করলে নির্বাচিত প্রার্থীকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান তারা। জবাবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিশ্রুতি দেন, ফরহাদ হোসেন আজাদ বিজয়ী হলে মন্ত্রীত্ব নিয়ে কোনো সংশয় থাকবে না।
এই বক্তব্য জনসভাটিকে আস্থার প্রতিফলনে রূপ দেয়। নির্বাচনে বোদা-দেবীগঞ্জের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিপুল ভোটে ফরহাদ হোসেন আজাদকে বিজয়ী করেন। বিশেষ করে এই অঞ্চলের সনাতনী ভোটারদের অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল তাঁর বিজয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সারাদেশে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বিএনপি। এরই মধ্যে বোদা-দেবীগঞ্জজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন একটাই প্রশ্ন—ফখরুল স্যার কথা রাখবেন তো?
জানা যায়, ফরহাদ হোসেন আজাদ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। সংগঠনকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে তাঁর পরিশ্রম, তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ভূমিকা তাকে এলাকায় গ্রহণযোগ্য করেছে। অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত, যাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এখন বোদা-দেবীগঞ্জের মানুষের প্রত্যাশা।
দেবীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক হরিশ চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ফরহাদ হোসেন আজাদকে স্থান দিলে এলাকাবাসীর আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা দেওয়া হবে। তাঁর মতে, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী এই নেতাকে মন্ত্রী করা হলে রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থাও আরও দৃঢ় হবে।