মোঃ মকবুলার রহমান,নিজস্ব প্রতিনিধি:
বিএনপি ক্ষমতায় এলে নীলফামারীকে একটি শিল্পসমৃদ্ধ ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী জেলায় রূপান্তর করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নীলফামারীতে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখ দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। তবে শুধু ভোট দেওয়াই শেষ কথা নয়, ভোটের পর দেশ গড়ার দায়িত্বও আমাদের সবার। কারণ আমাদের যাওয়ার আর কোনো ঠিকানা নেই—আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ।
তারেক রহমান বলেন, নীলফামারী একটি সম্ভাবনাময় জেলা। এখানে ইতোমধ্যে একটি ইপিজেড রয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এই ইপিজেড আরও সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে এবং স্থানীয় মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি তরুণ সমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকরা দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
নারীদের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মা-বোনদের আর অবহেলায় থাকতে হবে না। প্রত্যেক নারীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবেন। এতে নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং পরিবার পরিচালনায় তারা আরও আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবেন।
কৃষকদের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চল কৃষিনির্ভর এলাকা। কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সহজে সার-বীজসহ কৃষি উপকরণ পাওয়ার লক্ষ্যে ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
ধর্মীয় নেতাদের জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরু অনেক ক্ষেত্রেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের জন্য সম্মানজনক ভাতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এটি হবে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার প্রকল্প। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে নদী তীরবর্তী এলাকায় সেচ সুবিধা বাড়বে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং পুরো অঞ্চল সবুজ ও শস্য-শ্যামলায় ভরে উঠবে।
এ সময় তিনি নীলফামারীতে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবির কথাও উল্লেখ করেন এবং পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুর শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন, রেল কারখানাসহ এ অঞ্চলের বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জনসভায় তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, এই এলাকার মানুষ যেন ভোট দিতে না পারে সেজন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। যারা জনগণকে ভয় দেখাবে বা কোনো ধরনের অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের শক্তিই শেষ পর্যন্ত বিজয় নিশ্চিত করবে।