মোঃ মকবুলার রহমান,নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পরও নীলফামারী–২ আসনে ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন–কে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়ার দাবি স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, নাগরিক মতবিনিময় সভা ও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
স্থানীয়দের একাংশ মনে করেন, সংসদ সদস্য না হয়েও বিশেষ দক্ষতা ও পেশাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ তাঁর রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, নির্বাচনে পরাজিত হলেও উন্নয়ন ভাবনা ও পরিকল্পনা উপস্থাপনের কারণে তুহিনের গ্রহণযোগ্যতা এখনও বিদ্যমান।
সাংবিধানিক সুযোগ
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যার অনধিক এক–দশমাংশ সংসদ সদস্য নন—এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে টেকনোক্র্যাট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যায়। এ নিয়োগ সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারভুক্ত এবং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
উন্নয়ন ও দক্ষতার প্রসঙ্গ
সমর্থকদের দাবি, পেশায় প্রকৌশলী তুহিন অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা এবং শিল্পায়নমুখী নীতি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারেন। তরুণ নেতৃত্ব ও কারিগরি জ্ঞানকে তাঁরা তাঁর প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করছেন।
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রত্যাশা
উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীতে দীর্ঘদিন ধরে শিল্প ও অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের দাবি রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরা ইপিজেড–কেন্দ্রিক শিল্প বিস্তার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা স্থানীয়রা তুলে ধরছেন। তাঁদের মতে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব জোরদার হলে জেলার বড় প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তুহিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরও তাঁর জনপ্রিয়তা স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। তবু নীলফামারী–২ আসনে তুহিনকে ঘিরে যে জনমত তৈরি হয়েছে, তা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সময় তাঁর নাম বিবেচনায় আসে কি না—এখন সে দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।