মোঃ মকবুলার রহমান,নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী–২ আসনে পরাজয়ের পর আবেগঘন বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন প্রকৌশলী ও রাজনীতিবিদ শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। ভোটের ফল ঘোষণার পর সমর্থক ও এলাকাবাসীর উদ্দেশে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে ক্ষমতার চেয়ে মানুষের ভালোবাসা ও সেবার গুরুত্ব উঠে আসে। বক্তব্য চলাকালে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে তাঁর লক্ষ্য কখনো পদ বা মর্যাদা ছিল না, বরং মানুষের জন্য কাজ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাকেই তিনি জীবনের প্রকৃত অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তুহিনের পুরো বক্তব্য
“আমি তো মানুষকে সেবাই দিচ্ছি। আমি তো সেবাই করতে চাই। আপনারা ভোট দেন নাই তাতে কি হইছে? আমাকে এমপি হতে হবে এটাতো আমি কখনো চিন্তা করিনি। আমি তো চিন্তা করেছি আমার এলাকার কাজ করার জন্য। বাকিটাতো সম্মান দেওয়ার মালিক আল্লাহ। সম্মান নেওয়ার মালিকও আল্লাহ। সম্মান কি আল্লাহ কম দিয়েছেন আমাকে? এই রাত দশটার সময় এতগুলো মানুষ আমার কথাগুলো শুনতেছেন, কি জন্য শুনতেছেন? আল্লাহর তরফ থেকে সম্মান না? এটা কি চাইলেই এতগুলো মানুষ কে জড়ো করা যায়? চাইলেই কি মানুষের সম্মান পাওয়া যায় বায় ? এটা আমরা বুঝিনা কেন? পথ থাকলেই কি সম্মান হয়? মানুষের ভালোবাসা পাইলে সেটা ঠিক। মানুষের দোয়া পাইলে এটাই ঠিক। আখেরাতে তো এটাই যাবে আমার। আমাদের আর কিছু যাবে না। আজকে যদি আমরা এলাকার জন্য, মানুষের জন্য, নিঃস্বার্থভাবে কোন কিছু করে যেতে পারি। দুইদিন আগে পরে তো মরে যাব না ভাই? সবাই আমরা চলে যাবো। আমরা চলে গেলে থাকবে টা কি? শুধু থাকবে আমরা যেটা করে যাবো। একটা মানুষ মৃত্যুর পরে যদি মানুষে বলে লোকটা ভালো ছিল সেটা আল্লাহর আরশেও পৌঁছায়। আল্লাহ আমাদের ক্ষমতা দিয়ে পরীক্ষা করেন, ক্ষমতা নিয়ে পরীক্ষা করেন, দারিদ্রতা দিয়েও পরীক্ষা করেন, ধন সম্পদ দিয়ে পরীক্ষা করেন ,ধন-সম্পদ নিয়েও পরীক্ষা করেন। জান দিয়েও পরীক্ষা করেন, জান নিয়েও পরীক্ষা করেন। ক্ষমতা যারা পায়, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী এই পথ যারা পায় মনে রাখবেন এটা আল্লাহ পাকের পরীক্ষা। সৃষ্টিকর্তার পরীক্ষা অনেক কঠিন।”
স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনে হারলেও তাঁর এই সংযত ও মানবিক বক্তব্য এলাকায় ইতিবাচক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই এটিকে রাজনীতিতে সহনশীলতা ও মানবিকতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।