মোঃ মকবুলার রহমান,নিজস্ব প্রতিনিধি:
৩০ দিনের সিয়াম সাধনার পর শনিবার (২১ মার্চ) সারাদেশে উদযাপিত হবে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। বৃহস্পতিবার দেশের কোথাও ১৪৪৭ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর সম্মেলন কক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। বৈঠক শেষে তিনি দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জানান, নিয়ম অনুযায়ী ২৯ রমজানে চাঁদ দেখা গেলে পরদিন ঈদ হয়, আর চাঁদ দেখা না গেলে ৩০ রোজা পূর্ণ করে তার পরদিন ঈদ উদযাপন করা হয়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।
জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাজধানীতে ঈদ জামাতকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, জাতীয় ঈদগাহসহ আশপাশ এলাকায় সিসিটিভি নজরদারি, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর, ডগ স্কোয়াড এবং বিশেষ টহল ব্যবস্থা থাকবে। মুসল্লিদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ এবং নারীদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন জানায়, জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ নারী মুসল্লির জন্য পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। মেডিকেল টিম ও পর্যাপ্ত ওজুখানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত আয়োজন করেছে। এছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ঈদকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ আয়োজনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ-এ দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম ঘটবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি। এ সময় সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোকসজ্জা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র, জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থান।
সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে উদযাপিত হতে যাচ্ছে মুসলমানদের এই সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব।