মোঃ আবু জাফর মন্ডল, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
দশ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন ডা: শফিকুর রহমান। সেই সাথে চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ এই শ্লোগান কে সামনে রেখে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে ২৪ জানুয়ারি শনিবার সকাল ৯টা পলাশবাড়ী এস.এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এ বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য শেষে গাইবান্ধা জেলার ৫ টি আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতিক তুলে দেন ও পরিচয় তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান। এ জনসভায় তিনি গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
গাইবান্ধা ৩ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামী গাইবান্ধা জেলা শাখার সাংগঠনিক সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু এর সভাপতিত্বে এ জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী সহকারি সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। এতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা ৪ গোবিন্দগঞ্জ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ডাঃ আব্দুর রহিম সরকার, গাইবান্ধা ২ (সদর) আসনের মনোনীত প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা আমীর মোঃ আব্দুল করিম, গাইবান্ধা ৫ (সাঘাটা ফুলছড়ি) আসনের মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমীর বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল ওয়ারেছ,গাইবান্ধা ১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাজেদুর রহমান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ১০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ছাত্র বিভাগ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গাইবান্ধা জেলা শাখার ও উপজেলা শাখাসমূহের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, “রংপুর বিভাগ বাংলাদেশের শস্য ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলার নদী গুলোকে শাসন নয়, আপন করে নিয়ে আদর যন্ত্রে লালন পালন করে কৃষি ও জনজীবনের স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।”তিনি আরও বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পর্যায়ক্রমে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। এতে করে একদিকে যেমন উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে।
গাইবান্ধার সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, বালাশীঘাটে সেতু নির্মাণ, গোবিন্দগঞ্জে ইপিজেড কার্যক্রম চালুসহ যোগাযোগ ও শিল্পখাতে যুগান্তকারী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত হবে।
সভায় ডাঃ শফিকুল ইসলাম জানান, “আমরা ভাতা নির্ভর সমাজ চাই না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে যুবকরা ভিক্ষুক নয়—কর্মসংস্থান ও দক্ষতার মাধ্যমে আত্মমর্যাদাশীল নাগরিক হিসাবে গড়ে উঠবে।” দেশে চলমান চাঁদাবাজি, জুলুম ও দুর্নীতির রাজনীতি বন্ধ করে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। জনগণের সমর্থন পেলে জামায়াতে ইসলামী গাইবান্ধাসহ পুরো রংপুর বিভাগকে একটি উন্নয়ন, ন্যায় ও কর্মসংস্থানমুখী অঞ্চলে পরিণত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ সময় জেলা ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামী ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় আলেম-ওলামা, পেশাজীবী ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় নির্বাচনী উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।