মোঃ মকবুলার রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ এক বার্তা দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তারেক রহমান–এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকে জাতীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক সংলাপ ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
পোস্টে তিনি জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর ভিত্তিতে একটি স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সংখ্যালঘু ও বিরোধী মতের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থে নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতা করা হবে, তবে আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তারা আপসহীন থাকবে। জনকল্যাণমূলক কাজে সমর্থন দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় সমালোচনা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিচে তার দেওয়া মূল বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো—
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি আজ আমার আবাসিক কার্যালয়ে এসেছিলেন। তার এই আগমন আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি তার এই আগমনকে স্বাগত জানাই এবং প্রত্যাশা রাখি, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।
আমি এমন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি যা হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১-দলীয় জোটের সাথে মিলে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। আমাদের আলোচনায় তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো হামলা রোধে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। আমি এই আশ্বাসকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের প্রত্যাশা, কোনো নাগরিকই যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হয়।
জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে আমরা নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবো, তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আমরা আপসহীন থাকবো। সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে আমাদের সমর্থন থাকবে, কিন্তু যেখানেই জবাবদিহিতার প্রয়োজন হবে, সেখানে আমরা সোচ্চার থাকবো। আমাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয় বরং সংশোধন; বাধা দেওয়া নয় বরং পর্যবেক্ষণ। দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে, যা ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করবে এবং স্থিতিশীলতার সাথে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
#চলো_একসাথে_গড়ি_বাংলাদেশ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে সংলাপের আহ্বান ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ার ইঙ্গিত দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।