বিমল কুমার রায়
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা করার অভিযোগে সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৭২ নেতা-কর্মীর নামে মামলা দায়ের করা করেছে।
মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকল আসামিই আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।
গত ৫ জুন দুপুর আড়াইটায় জুয়েল রানা নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। জুয়েল রানা পঞ্চগড় সদর থানার ইসলামবাগ এলাকার মৃত ফয়জুল ইসলামের ছেলে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে ২০২৫ ইং তারিখে আসামীগন একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একত্রে মিলিত হয়ে নাশকতার বিভিন্ন পরিকল্পনা করেন এবং সেই নাশকতা পরিকল্পনার ৮ মিনিটের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন। অডিও ক্লিপটি সামাজিক মাধ্যমে অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জনমনে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়।
অডিও ক্লিপে দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম এমুর নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়। বক্তব্যে সে এক রাতেই কয়েকটি ইসলামী ব্যাংক শাখায় আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন এবং বিএনপি ও জামায়েতী ইসলামের ১ম সারির ১০ জন নেতার বাড়ি জ্বালিয়ে দিতে চান।
সামাজিক মাধ্যমে এমন নাশকতাকারী পরিকল্পনা প্রকাশের পর জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ও ভয়-ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসী এমুর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে।
মামলার বাদী জুয়েল রানা বলেন, মামলার প্রধান আসামী আশরাফুল আলম এমু সহ প্রত্যেক আসামীগণ দুর্দান্ত প্রতাপশালী, অত্যাচারী ও সন্ত্রাসী। এরা পরিকল্পিত ভাবে বাংলাদেশের অখন্ডতা, সংহতি ও জন নিরাপত্তা বিপন্ন করে রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা করছে। তিনি অনতিবিলম্বে আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের নিকট অনুরোধ জানান।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো: সোয়েল রানা বলেন, বাদী জুয়েল রানা থানায় উপস্থিত থেকে মামলার এজাহার জমা করেন। সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর ৬(১)(ক) এর (ঈ) ৯/১০/১১/১২ ধারা মোতাবেক মামলা রজ্জু করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা অব্যহত আছে।
উল্লেখ্য, মামলার প্রধান প্রধান আসামীগণ হলেন আশরাফুল আলম এমু(সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা কৃষকলীগ), গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী (সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগ), হাসনাত জামান চৌধুরী জর্জ(সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা আওয়ামী লীগ), আবু বক্কর ছিদ্দিক( সাবেক মেয়র), রিতু আক্তার(ভাইস চেয়ারম্যান), বাবুল হোসেন সরকার (ভাইস চেয়ারম্যান), নাসিরউদ্দীন চৌধুরী, রাজু আহমেদ মিঠু(যুবলীগ সেক্রেটারি), দীপংকর রায়(সাবেক রেলমন্ত্রীর পিও), শাহিনুর ইসলাম (ছাত্রলীগ সভাপতি),নুর নেওয়াজ, মাজেদুর রহমান মাজু, প্রভাষক দুলাল, আক্তার হোসেন নিউটন (জেলা পরিষদ সদস্য),রফিকুল ইসলাম, ইরফান জর্জ, সাদ্দাম হোসেন, তাইবুল ইসলাম ও সাবেক রেলমন্ত্রী পুত্র ব্যারিস্টার কৌশিক নাহিয়ান নাবিদ প্রমূখ।