ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর সাহাপাড়া গ্রামে দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিন–এর সংবাদকর্মী জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে আনুমানিক ৯টার দিকে প্রতিবেশী মন্তাজ আলী, তার স্ত্রী শিল্পী এবং মাতা আলেয়া বেগমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এই হামলার ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, বাড়িতে প্রবেশের প্রধান রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। টিউবওয়েলের ড্রেনেজের ময়লা-আবর্জনা ফেলে সাংবাদিক জয়নালের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে চার মাস আগে জয়নাল আবেদীন থানায় মন্তাজ আলী ও হবিবর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার আয়োজন করে।
সমঝোতায় বিবাদীরা ৯০ দিনের মধ্যে জয়নালের দখলে থাকা তাদের জবরদখলকৃত ০.৫০ শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়ার মুচলিকা প্রদান করেন।
কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও জমি ফেরত না দিয়ে বরং তাকে হত্যার হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখাতে থাকে মন্তাজ আলীরা। এ পরিস্থিতিতে জয়নাল আবেদীন থানায় জিডি (নং–৮৪৩) করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ জিডিটিকে এনজিআর হিসেবে আদালতে পাঠায়, এবং আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
আজ সকালে সমন জারির পর বিবাদী পক্ষ পুনরায় রাস্তা খনন করে কাদা সৃষ্টি করে চলাচলে বাধা দিয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে। জয়নাল আবেদীন বাড়ির আঙিনা থেকে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে অভিযুক্তরা তার দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে, বাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর করে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হওয়ার পথ অবরুদ্ধ করে রাখে। এতে তিনি বাড়ির ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হলে সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করেন। খবর পেয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানে প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই বারবার এমন উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে।