মশিয়ার রহমান
ডিমলা(নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানি ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার ফলে প্রায় ৫ হাজার বিঘা আবাদি জমি ও শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামে তিস্তার স্রোতে নতুন তিনটি শাখা নদী সৃষ্টি হয়ে আশপাশের শতাধিক বিঘা জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। সদ্য রোপিত আমন ধান পলি ও কাদার নিচে চাপা পড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ কৃষক এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল হারিয়ে কিস্তি ও ঋণ পরিশোধে চরম চাপের মুখে তারা মানসিক দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় মাটি শক্ত হয়ে আগামী মৌসুমে জমি চাষও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সহায়তার আশ্বাস দেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. আব্দুল হাকিম বলেন, “রোপা আমনের ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। বহু বছরের সঞ্চয় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, আমরা বড় সংকটে পড়ব।”
কৃষক আব্দুর রহিম জানান, “শাখা নদীর পরিবর্তনে শতাধিক বিঘার ফসল শেষ। আমাদের জীবন-জীবিকা এখন অনিশ্চিত।”
হযরত আলী বলেন, “এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সরকারি সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয়।”
কৃষক সুবল সাহা বলেন, “ধানই ছিল আমাদের জীবিকার ভরসা। ফসল নষ্ট হওয়ায় আগামী মৌসুম কিভাবে কাটাব বুঝতে পারছি না।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বীজ, সার ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছি। প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সহায়তা করা হবে।”
ইউএনও মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালু করা হবে। কৃষি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।”
নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. এস.এম. আবু বকর সাইফুল ইসলাম জানান, পানি সরে গেলে উন্নতমানের বীজ ও সার দেওয়া হবে এবং আগামী মৌসুমের ক্ষতি কমাতে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।