অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, বিএনপির সম্ভাব্য ও ঘোষিত প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় হলেও দলটি এখন তিনটি মৌলিক সমস্যার মুখোমুখি—
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এবং দলীয় মনোনয়নকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ বিরোধ।
দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল—সব পর্যায়েই এ তিন বিষয় নিয়ে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রশ্ন
গত অক্টোবর মাসে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল—নভেম্বরেই লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজেও বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকারে দ্রুত দেশে ফেরার আশার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু নভেম্বর শেষ হতে চললেও তার দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
সরকার পরিবর্তনের দেড় বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও তারেক রহমান কেন এখনো দেশে ফিরছেন—এ প্রশ্নের উত্তর কেউ স্পষ্টভাবে দিতে পারছেন না। যদিও তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার নিষ্পত্তিও হয়ে গেছে। এমনকি ঢাকায় তার জন্য বাড়ি সংস্কার, বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমোদনসহ প্রস্তুতির নানা খবরও এসেছে।
দলের নেতাদের কেউ কেউ ইঙ্গিত করছেন—নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর তিনি দেশে ফিরতে পারেন। কিন্তু তফসিলের আগে কেন নয়—এই প্রশ্ন দলের অভ্যন্তরে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, তফসিল ঘোষণার পরও যদি ফেরার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়, তবে সন্দেহ আরও তীব্র হবে এবং তা বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থাকে ঘিরে দলে উদ্বেগ
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তিনটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করায় দলীয় কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ও নতুন করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় দলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন এবং মেডিকেল বোর্ড সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জেলায় বিএনপির ইউনিটগুলো দোয়া মাহফিল আয়োজন করছে।
বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া বিএনপির ঐক্যের প্রতীক; তাঁর অসুস্থতা দলীয় কর্মীদের মানসিকভাবে নাড়া দিচ্ছে।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন—তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন এবং নেতৃত্ব দেবেন।
মনোনয়নকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ সংঘাত
তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য উদ্বেগ ছাড়াও বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মনোনয়ন–সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।
প্রায় ৫০টি আসনে ঘোষিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ—এ ধরনের প্রতিক্রিয়া বিএনপিকে বিব্রত করছে। বহু স্থানে ত্যাগী নেতারা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন।
এছাড়া সমমনা দলের জন্য খালি রাখা আসনগুলো নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, এসব এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক থাকায় কিছু আসনে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করছে বিএনপি। সাম্প্রতিক স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এ প্রসঙ্গ উঠেছে।
ড. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, মনোনয়ন–সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে। তাঁর ধারণা, শিগগিরই এসব সমস্যা কাটিয়ে সংগঠিতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে বিএনপি।