এম এ ওয়াহেদ লাখাই প্রতিনিধিঃ
হবিগঞ্জ জেলার লাখাইয়ে বোরোধানের বাম্পার ফলন। কৃষকের মুখ হাসির ঝিলিক। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার ২০৮ হেক্টর বোরোধান আবাদে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে অর্জিত হয়েছে ১১২১০ হেক্টর জমি। যারা উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা প্রায় ৫৫ হাজার মেঃ টন ধান এবং উপজেলার চাহিয়া মিটিয়ে উদ্বৃত্ত প্রায় ২৫ হাজার মেঃ টন ধান। লাখাই উপজেলা হাওর বেষ্টিত উপজেলা ৬ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। তবে লাখাই ও বুল্লা ইউনিয়ন এক ফসলের উপর নির্ভরশীল। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে উপজেলা জুড়ে প্রতিটি ইউনিয়নে এক ফসলী ও ২ ফসলী জমি সহ বোরোধানের চাষের আওতায় আনা হয়েছে। বোরোধান আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১১ হাজার ২০৮ হেক্টর জমি। কিন্তু উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কার্যক্রমের এ বছর বোরোধান চাষাবাদে অর্জিত হয়েছ
১১ হাজার ২১০ হেক্টর জমি। এর মধ্যে হাওরে হাইব্রিড জাতের ধান ২২৪.৬ হেক্টর এবং উচ্চ ফলনশীল( উফসী) জাতের ১৩৫.৯০ হেক্টর জমি। ননহাওরে হাইব্রিড জাতের ধান ৪৩.৮ হেক্টর এবং উফসী জাতের ৮৯.০৫ হেক্টর।
সরজমিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাওরে ঘুরে দেখা যায় হাওরাঞ্চলের বুল্লা ইউনিয়ন এবং লাখাই ইউনিয়ন সহ হাওরাঞ্চলের কৃষকদের সাথে আলাপ কালে তারা বলেন ইতিমধ্যে আগাছ। পরিস্কার ও কীটনাশক প্রয়োগের কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু ঘরে ধান তোলার অপেক্ষায় আছি। তারা আরও জানান, এ বছর বোরোধান বাম্পার ফলন হয়েছে যদি আবহাওয়া অনূকূলে থাকে তা হলে আশানুরূপ ফসল উৎপাদন হবে আশাবাদী। এরই মাঝে আগাম জাতের ব্রি-ধান ৮৮ও ২৮ জাতের ধানের শীষ বেড় হতে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ শাহাদুল ইসলাম বলেন চলতি মৌসুমে বোরোধান এর আবাদে লক্ষ্য মাত্রা মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর সময়োপযোগী পদক্ষেপ, কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা এবং উদ্বুদ্ধকরণ করায় কৃষকরা আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তাছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর মাধ্যমে সেচযন্ত্র, পানি সাশ্রয়ী পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করন ও সৌরবিদ্যুত চালিত সেচযন্ত্র চালু করতে পারায় অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আসছে। এতে আবাদের লক্ষ্য মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে
তাছাড়া হাওরাঞ্চল বেষ্টিত লাখাইয়ে ধান উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। তিনি আরও বলেন এ বছর এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় ও পর পর ৩ দিন বৃষ্টি হওয়ায় এ বছর আশানুরূপ ফলনে আশাবাদী।