মোঃ হারুনুর রশিদ,কচুয়া প্রতিনিধিঃ
“আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁদপুরের কচুয়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৃণালিনী কর্মকারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাহিদ ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবু নাছির।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, কচুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি বিল্লাল হোসেন, কচুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এমদাদ উল্লাহ, তথ্য সেবা সহকারী আফরোজা আক্তার এবং সফল নারী উদ্যোক্তা চামেলী আক্তার।
আলোচনা সভায় বক্তারা নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারীদের সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, একটি উন্নত ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে নারীদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা রোধ, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথি মোঃ আবু নাছির তার বক্তব্যে বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের পথে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। তিনি আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে নারীর অধিকার সুরক্ষা, নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারী উদ্যোক্তাদের সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৃণালিনী কর্মকার বলেন, বর্তমান সময়ে নারীরা আর পিছিয়ে নেই। শিক্ষা, প্রযুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছেন। তিনি নারীর ক্ষমতায়নের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন।
আলোচনা সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন নারী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নারী অধিকার রক্ষা, সমতা প্রতিষ্ঠা এবং নারীর উন্নয়নে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।